

কুড়িগ্রাম ২৯ জুন: : কুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ২৮ সে.মি. এবং ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ২০ সে. মি. ওপরদিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। জেলার ৯ উপজেলার ৫৩টি ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় আড়াই লাখ মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। জরুরি ভিত্তিতে বন্যার্তদের সহায়তার জন্য ৫০০ টন চাল ও নগত ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঢাকা থেকে বরাদ্দ মেলেনি। আজ শুক্রবার রংপুর বিভাগীয় কমিশনার জসিম উদ্দিন আহমেদ ও জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু তাহের জানান, আজ শুক্রবার বৃষ্টি না হলেও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমরসহ সব কটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্রে ২৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২৮ সে. মি. ওপর, ধরলায় ২৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২০সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দুধকুমারের নুনখাওয়া পয়েন্টে বেড়েছে ২৪ সেন্টিমিটার এবং তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে কমেছে ১ সে.মি. পানি। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান জানান, কুড়িগ্রাম সদর, চিলমারী, ফুলবাড়ি, নাগেশ্বরী, রৌমারী, রাজীবপুর, রাজারহাট ও উলিপুর উপজেলার ৫৩টি ইউনিয়ন বন্যা কবালত হয়েছে। আড়াই লাখ মানুষ পানি বন্দি। পানিতে তলিয়ে গেছে গ্রামীণ রাস্তাঘাট, আমন বীজতলা, পাট ও সবজি ক্ষেত। প্রায় ২০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ ও ভবন জলমগ্ন হয়ে পড়ায় বন্ধ হয়ে গেছে শিক্ষা কার্যক্রম। পানিবন্দী মানুষদের অনেকে উঁচু রাস্তা ও বাঁধে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। কুড়িগ্রামের পাঁচগাছি ইউনিয়নের বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার জসীম উদ্দিন আহমেদ বলেন, বন্যার ভয়াবহতা ও বন্যা দুর্গতদের কষ্টের কথা জানিয়ে ঊর্ধŸতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। বন্যা দুর্গতদের পাশে দাড়ানোর জন্য সরকারের পাশাপাশি এনজিও গুলোকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।