

রংপুর, ১ জুলাই: রংপুরকে অবশেষে সিটি করপোরেশন ঘোষণা করলো সরকার। রোববার সকালে রংপুরকে সিটি করপোরেশনের ঘোষণা করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে সিটির গেজেট পাশ হয়েছে বলে জানা গেছে।
রোববার সকালে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় রংপুর সিটি করপোরেশন ঘোষণা করে একটি পরিপত্র জারি করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালের গেলো বছর ৮ জানুয়ারি জিলা স্কুল মাঠের জনসভায় রংপুর সিটি করপোরেশন ঘোষণাসহ বিভাগের উন্নয়নের সব ভার পুত্রবধূ হিসেবে নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন।
১৮৬৯ সালে ২৩ বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়ে এই রংপুর পৌরসভার যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে তা ৫৪ বর্গকিলোমিটার হয়। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর ২০৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের আকর্ষণীয় ও পরিকল্পিত মহানগরী প্রতিষ্ঠার সব দাফতরিক কাজ শেষে তা ছিল অনুমোদনের অপেক্ষায়। তবে চলতি বছর ৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে ফাইলটি অনুমোদন না হয়ে ফেরত আসায় হতাশ হয়ে পড়েন নগরবাসী। তারা যুগপৎ আন্দোলনে নামেন।
এরইমধ্যে ৭ এপ্রিল সদর উপজেলার মমিনপুর নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় পার্টির এক বিশাল জনসভায় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৫ মে’র মধ্যে সিটি বাস্তবায়নে সরকারকে আল্টিমেটাম দিলে আন্দোলন আরো বেগবান হয়ে ওঠে। এছাড়াও প্রতিদিন বিক্ষোভ সমাবেশের পাশাপাশি সমাজ পরিবর্তন ও উন্নয়ন ফোরাম ১ এপ্রিল ১০ মিনিটের স্তব্ধ রংপুর, যুগের আলো পত্র লেখক পরিষদ ২১ এপ্রিল মানববন্ধন, রংপুর সিটি করপোরেশন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ ১৭ মে প্রতীকী অনশন, ২০ মে ২০ মিনিটের স্তব্ধ রংপুর এবং ২৪ মে পৌরসভা ঘেরাও, ২৭ মে জাতীয় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালনসহ রংপুর সিটি করপোরেশন লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়। এরপর লংমার্চসহ বিভিন্ন আন্দোলন চলছেই। এরই মধ্যে রংপুর সিটি করপোরেশন ঘোষণা হওয়ায় আনন্দের জোয়ারে ভাসছে রংপুরবাসী।