

সাভার প্রতিনিধি, জুন২৪: সাভার উপজেলা কমপ্লেক্সের শাহীন ষ্টোরের মালিক মোয়াজ্জিম হোসেন শাহীন গত শুক্রবার রাতে ফাস দিয়ে আতœহত্যার আগে স্ত্রী রোকেয়া খাতুন মুকুল ও দুই মেয়ে শারমীন (১৪) ও এনা (৭) এবং স্বজনদের কাছ থেকে বিদায় নিয়েছিলেন। শারমীন সাভার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণী এবং এনা একই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে শাহীন দুই মেয়ে শারমীন ও এনাকে ড্রইং রুমে পাশে বসিয়ে ভালভাবে পড়ালেখা করে মানুষের মতো মানুষ হওয়ার উপদেশ দিয়েছেন। দু মেয়েকে পরম মমতায় বুকে জড়িয়ে ধরে কপালে চুমু খেয়েছেন। মায়ের কথামতো চলতে বলেছেন। শাহীন তার স্ত্রীকে বলেছেন দুই মেয়েকে দেখে রাখতে। কিভাবে সংসার চালাবেন তা নিয়েও আলোচনা করেছেন। সর্বশেষ বোন নাসিমা আক্তারের মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠিয়েছেন ‘আমি আর পারছি না-তাই দুনিয়া থেকে চলে যাচ্ছি।’ এসময় তার চেহারায় ছিল বিষন্নতার ছাপ। এরপরই গলায় রশি দিয়ে সম্পূর্ন পরিকল্পিতভাবে তিনি আতœহত্যা করেন। শাহীন ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের গ্রাহক। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অন্যসব দিনের চেয়ে ভিন্ন আচারণে করলেও কেউই বুঝে উঠতে পারেননি যে তিনি মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে যাচ্ছেন। তবে এসএমএস পেয়ে বোনের মনে নাড়া দিয়েছে। তিনি শাহীনের বাসায় দ্রুত ছুটে এসে দেখেন ভাইয়ের ঝুলন্ত দেহ। অবশ্য আজ রোববার পর্যন্ত ডেসটিনির কেউই নিহতের পরিবারের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করেননি বলে জানা গেছে। নিহত শাহীনের পরিবারের সদস্যরা সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।
শাহীনের দোকান কর্মচারী ওয়াহিদুল জানান, শাহীন ৩ বছর আগে ডেসটিনিতে যোগ দেন। তিনি ছিলেন মালিবাগ মোড়ে হোসাফ টাওয়ারে ঢাকা-১৮ এর নেটওয়ার্কার। গ্রাহক হওয়ার পর তিনি আরো ৬০ জনকে ডেসটিনির গ্রাহক করেন। তারা শুরুতেই ৭ হাজার টাকা করে দিয়ে ডেসটিনির বিভিন্ন পন্য কিনেন। এরপর এদের প্রায় জনই ডেসটিনিতে লাখ টাকার উপরে বিনিয়োগ করেন।
শাহীনের আগ্নে রনি জানান, সম্প্রতি ডেসটিনি নিয়ে বাজারে নানা কথা চালু হলে বিনিয়োগকারীরা টাকার জন্য শাহীনকে চাপ দিতে শুরু করেন। চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনি আতœহত্যার পথ বেছে নেন।
নিহতের স্ত্রী মুকুল শোকে বাকরুদ্ধ। তিনি বলেন, রাতে এসএমএস পেয়েই শাহীনের বড়বোন নাসিমা আক্তার বাসায় ছুটে আসেন। ড্রইং রুমের দরজায় কড়া নেড়ে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙ্গে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। নাসিমা বলেন, যার জন্য এতোকিছু সেই ডেসটিনির কেউই এখন পর্যন্ত কোনো খোজ নেয়নি।
সাভার পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আলেয়া আক্তার পরী জানান, কয়েকদিন আগে শাহীন তাকে ঋণের চাপের কথা জানিয়ে ১০ হাজার টাকা ধার নেন। গত বৃহস্পতিবার বিকালেও শাহীনের সঙ্গে তার কথা হয়। শুক্রবার রাতে তিনি আতœহত্যার করেন।
ডেসটিনি কর্মকর্তা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ:
এদিকে সাভারে কর্মরত পুলিশের একটি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা জানিয়েছেন, খোজ নিয়ে জানা গেছে ডেসটিনি-২০০০ এ সাভারের কর্মকর্তা মোসাদ্দেক ওরফে মাগার গত কয়েক বছরে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন। সাভার পৌর এলাকার ভাগলপুর মহল্লায় যা বাড়ি এবং সামনে লাগোয়া যে মুদি দোকান ছিল তা এখন প্রাসাদ। এর অদূরে আক্কেল আলীর মোড়ে (মুক্তি হাসপাতালের পাশে) একাধিক বাড়ি, গাড়ি ও বিভিন্ন এলাকায় কয়েক কোটি টাকার জমি রয়েছে। বিষয়টি আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিবিহীন। থানা রোডে তাদের অফিস, গাড়ির সামনের গ্লাসে লাগানো সংবাদপত্র লেখা স্টীকার। সম্প্রতি ডেসটিনি নিয়ে নানা কথা চাউর হলে ভীত হয়ে গ্রাহকরা গচ্ছিত টাকার জন্য তার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও সাড়া মিলছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে সাভারে ডেসটিনি কর্মকর্তা মোসাদ্দেক হোসেন রোবরার দুপুরে মোবাইল ফোনে বলেন, তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। কোনো গ্রাহকের আতœহত্যার খবর তার জানা নেই এবং শাহীন নামে তার এজন্সীতে কোনো গ্রাহক নেই। আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিবিহীন সম্পদ অর্জন ও ঋণের টাকার জন্য গ্রাহকের আতœহত্যা এবং গচ্ছিত টাকার জন্য গ্রাহকদের চাপ সবই অপপ্রচার বলে তিনি দাবি করেন।