


ডেস্ক রিপোর্ট, ১ জুন: মিয়ানমারে উচ্চ বেকারত্বেও হারকে ‘টাইম বোমা’ অ্যাখ্যা দিয়ে দেশটিতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির নোবেল জয়ী গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সুচি।
তবে মিয়ানমারে পুনর্গঠন শুরু হলেও এ নিয়ে খুব শিগগিরই ‘আশাবাদী’ হয়ে ওঠার ব্যাপারেও সতর্ক করেন তিনি।
ব্যাংককে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম অন ইস্ট এশিয়া সম্মেলনে যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন সুচি।
মিয়ানমারে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেত্রী ৬৬ বছর বয়সী সুচি গতবছর গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্তি পান। দীর্ঘ ২৪ বছর পর এই প্রথম তিনি দেশের বাইরে সফরে যান।
সুচি বলেন,“ মিয়ানমারে বেকার তরুণদের সংখ্যা খুব বেশি। এটা একটা টাইম বোমার মতো।”
“এ কারণে মিয়ানমার অনেক সঙ্কটের মুখে পড়ছে”, বলেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, এ মুহূর্তে বিনিয়োগ থেকে কতোটা লাভ হবে তা ভাববেন না দয়া করে। মুনাফার আশা করেই বিনিয়োগ করা হয়, তা আমি জানি। তবে এখন বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আমাদের দেশেরও কিছু উপকার হতে হবে।
এ ব্যাপারে সবচেয়ে সহজ উদ্যোগ হিসেবে যতো বেশি সম্ভব কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য আহ্বান জানান তিনি।
কর্মসংস্থানের অভাবে মিয়ানমারের লক্ষ লক্ষ তরুণ বিদেশে, বিশেষ করে থাইল্যান্ডে চলে যেতে বাধ্য হয়। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে ৬ কোটি জনসংখ্যার দেশটিতে বিদেশি বিনিয়োগ বন্ধ ছিলো এতোদিন।
তবে গত এক বছর ধরে দেশটির সামরিক সরকার পুনর্গঠনের মধ্যে দিয়ে যাওয়ায় সম্প্রতি বেশিরভাগ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে।
সামরিক সরকারের অধীনে দীর্ঘদিন গৃহবন্দী থাকা সুচি বলেন, মিয়ানমারের সরকার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে গেলেও বিচার বিভাগের পুনর্গঠন নিয়ে তাদের খুব বেশি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, মিয়ানমারে বিনিয়োগে আগ্রহীদের লক্ষ্য রাখতে হবে যে, দেশটির বিচার বিভাগ স্বাধীন ও স্বচ্ছ না হলে সর্বোত্তম বিনিয়োগ আইনও ফলপ্রসু হবে না।
এ বিষয়টির দ্রুত সমাধান জরুরি বলে মন্তব্য করেন সুচি।
মিয়ানমারের বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুনের বৈদ্যুতিক সঙ্কটের কথাও উল্লেখ করেন সুচি।
গত এপ্রিলে মিয়ানমারের উপনির্বাচনে ৪৬টি আসনের মধ্যে ৪৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৪৩টি আসনে বিজয়ী হয় সুচির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)। বর্তমানে এনএলডি দেশটির পার্লামেন্টে বিরোধী দল হিসেবে রয়েছে।