সর্বশেষ
  • রাজশাহীতে ছাত্রলীগ কর্মীর লাশ উদ্ধার
  • বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময়
  • নোয়াখালীর সেনবাগে বাস উল্টে নিহত ২
  • আমার দেশ এবং দিগন্ত ও ইসলামিক টিভি চালুর দাবি ১৫ সম্পাদকের
  • বিএনপি সংসদে যাচ্ছে
  • ভবন ধসে অর্থনৈতিক জীবন বিপন্ন: অর্থমন্ত্রী
  • আশুলিয়ার পোশাক কারখানা খুলেছে
  • পাক নাগরিকদের আজমীরে আসতে বারণ!
  • জাতির প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে: মুনতাসির মামুন
  • এসএসসি-তে গড় পাস ৮৯.০৩ শতাংশ
মুসলিম-বৌদ্ধ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় প্রশ্নের মুখে মিয়ানমারের ভাবমূর্তি
Posted Date: 2012-06-11

সিত্তুয়ি, মিয়ানমার, জুন ১১ মিয়ানমারের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলের প্রধান শহর সিত্তুয়ি পর্যন্ত মুসলিম-বৌদ্ধ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ায় সোমবার মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রোববার রাতে প্রদেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে সান্ধ্য আইন বলবৎ রাখে সরকার। দলবদ্ধ মুসলিম ও বৌদ্ধদের পরস্পরের ঘরবাড়িতে আগুন দিতে ও সংঘবদ্ধ দাঙ্গাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে ফাঁকাগুলি ছুঁড়তে দেখেছেন রয়টার্সের প্রতিনিধি। খবর:দেশবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/রয়টার্স। এরআগে মিয়ানমার সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, শুক্রবার কয়েকশত রোহিঙ্গা দলবদ্ধ হয়ে বৌদ্ধদের ওপর হামলা করে। এরপর ঘটনাস্থল মংডু শহরে রাতে কারফিউ জারি করা হয়। দাঙ্গার সূত্রপাত সম্পর্কে পরিষ্কার কোনো কিছু না জানা গেলেও কিছুদিন ধরে মংডুর পশ্চিম এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল বলে জানা গেছে। এক রাখাইন নারীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় রোহিঙ্গাদের দায়ী করে রাখাইনরা। এর জের ধরে গত রোববার রাখাইনদের প্রতিশোধমূলক হামলায় ১০ রোহিঙ্গা নিহত হয়। তবে কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, দাঙ্গায় অন্তত সাত জন নিহত ও বহু লোক আহত হয়েছেন। গত বছর মিয়ানমারে সামরিক সরকারের পরিবর্তে একটি বেসামরিক সংস্কারবাদী সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করার পর বহু নৃতাত্ত্বিক জাতিতে বিভক্ত দেশে জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক ঐক্য গড়ে তোলার ডাক দিয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের এক বছরের মাথায় এই দাঙ্গা সরকারের উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ক্ষেত্রে মিয়ানমারের জাতিগত ঐক্য ও স্থিতিশীলতার বিষয়টি বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু এই দাঙ্গায় দেশটির জাতিগত ঐক্য ও স্থিতিশীলতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। সামরিক শাসন থেকে বের হয়ে আসার পুরস্কার হিসেবে মিয়ানমারে পর্যটক ও বিদেশি বিনিয়োগের যে ঝোঁক তৈরি হয়েছে অব্যাহত সান্ধ্য আইনের কারণে তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে। মিয়ানমার বা প্রতিবেশি বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের নিজেদের নাগরিক বলে স্বীকার করে না। মিয়ানমার সরকার ও বার্মিজ জাতির অনেকেই তাদের ‘রোহিঙ্গা’ বলেও স্বীকার করে না, তাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে চিহ্নিত করে। জাতিসংঘের উদ্বাস্তু সংস্থার দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ি, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাখাইন প্রদেশের তিনটি জেলায় প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গার বসবাস। হতভাগ্য এসব রোহিঙ্গাদের চরম ঘৃণা করে প্রদেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ ধর্মাবল¤॥^ী রাখাইনরা। মিয়ানমার দেশটিতে ধর্মীয় অনুসারীর ভিত্তিতে বৌদ্ধরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। এই দাঙ্গা মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকেও ব্যাহত করতে পারে বলে রোববার টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট থিয়েন। রোহিঙ্গা মানবাধিকার কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের রাখাইন প্রদেশের স্বাভাবিক নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে জন্মসূত্রে মিয়ানমারের পূর্ণ নাগরিকত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু সরকার রোহিঙ্গাদের প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে আগত অবৈধ আভিবাসী বিবেচনা করে নাগরিকত্ব দিতে অস্বীকার করে। সাম্প্রতিক দাঙ্গার জন্যও কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের দায়ী করে। সংস্কারবাদী সরকারের আমলে পাওয়া নতুন স্বাধীনতা ব্যবহার করে জাতিগত বার্মিজদের অনেকেই ইন্টারনেটে রোহিঙ্গাদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করে তাদের ‘দখলকারী’ ও ‘সন্ত্রাসী’ বলে অভিহিত করছে।

Subscribe
আন্তর্জাতিক -এর আরও সংবাদ