

দোহা, ১৭ জুলাই: পক্ষ ত্যাগকারী ইরাকে নিযুক্ত সিরিয়ার সাবেক রাষ্ট্রদূত নায়েফ আল ফারেস অভিযোগ করেছেন যে, সিরিয় সরকার আল কায়েদার সহযোগীদের দিয়ে শহরগুলোতে বোমা বর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে।
বাগদাদে গত সপ্তাহে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব ছাড়ার পর আল ফারেস কাতারের রাজধানী দোহায় বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘বাশার আল আসাদের অবস্থা এখন আহত নেকড়ের মতো, যে কিনা নিজে বেচে থাকার জন্য সবকিছুই করতে পারে।’
সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ নিজ দেশের মানুষের ওপর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের জন্যও প্রস্তুত ছিলেন বলে জানিয়ে ফারেস বলেন, ‘তাকে একমাত্র জোর করেই ক্ষমতা থেকে সরানো সম্ভব।’রাজধানী দামেস্কে যে লড়াই হচ্ছে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং একে তিনি আসাদ শাসনের পতনের শুরু বলেও বর্ণনা করেন।
এদিকে আমেরিকান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, ‘পক্ষ ত্যাগের ঘটনা এবং দামেস্কে যে প্রচণ্ড লড়াই হচ্ছে তা থেকে এটি স্পষ্ট যে আসাদ সরকার বেশ চাপে আছে এবং তারা আর টিকতে পারবে না।’সিরিয়া সমস্যার এখনো রাজনৈতিক ভাবে সমাধানের সময় আছে এবং রাশিয়া ও চীন যদি প্রেসিডেন্ট আসাদের ওপর চাপ দেয় তাহলে এর সরাসরি প্রভাব দেখা যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হিলারির এ মন্তব্য এমন সময় এলো যখন দামেস্কের কেন্দ্রস্থলের কাছে লড়াই চলছে এবং মিদান এলাকায় প্রথমবারের মতো সরকারি সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে আসাদ সরকারের প্রতি রাশিয়া ফের তার সমর্থন পুনর্ব্যাক্ত করেছে।সিরিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টায় রাশিয়াকে শরিক করার আরেক দফা চেষ্টায় মস্কোতে গেছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত কফি আনান।
এদিকে গতকালও সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের আশেপাশে সরকারি ও আসাদ বাহিনীর মধ্যে তুমুল লড়াই হয়েছে। বিদ্রোহীরা সরকারি বাহিনীর ব্যাপক গোলাবর্ষণের পরও ট্যাংকের ওপর গ্রেনেড হামলা করছে বলে জানা গেছে। তবে দেশটিতে মিডিয়া এবং ইন্টারনেটের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকায় সেখান থেকে হতাহত কিংবা ধ্বংশযজ্ঞের তেমন কোন সংবাদ এখনো পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘের মতে গত বছর থেকে সিরিয়ায় শুরু হওয়া সরকার বিরোধী আন্দোলন সহিংস রুপ নেয়ায় এ পর্যন্ত সেখানে ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। সূত্র: বিবিসি/এজে/রয়টার্স