সর্বশেষ
  • রাজশাহীতে ছাত্রলীগ কর্মীর লাশ উদ্ধার
  • বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময়
  • নোয়াখালীর সেনবাগে বাস উল্টে নিহত ২
  • আমার দেশ এবং দিগন্ত ও ইসলামিক টিভি চালুর দাবি ১৫ সম্পাদকের
  • বিএনপি সংসদে যাচ্ছে
  • ভবন ধসে অর্থনৈতিক জীবন বিপন্ন: অর্থমন্ত্রী
  • আশুলিয়ার পোশাক কারখানা খুলেছে
  • পাক নাগরিকদের আজমীরে আসতে বারণ!
  • জাতির প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে: মুনতাসির মামুন
  • এসএসসি-তে গড় পাস ৮৯.০৩ শতাংশ
বিরোধী জোটের আল্টিমেটাম ও চলমান রাজনীতি
Posted Date: 2012-05-03

ড. ফজলুল হক সৈকত : তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ইস্যুতে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি দিনদিন পট-পরিবর্তনের দিকে ধাবিত হচ্ছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোন ধরনের সরকারের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হবে

, তা নিয়ে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে ক্রমাগত দূরত্ব বাড়ছে। পাশাপাশি সরকারের প্রতি যুক্ত হয়েছে কূটনৈতিক চাপ। বিশেষত ১২ মার্চ ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিরোধী দলসমূহের মহাসমাবেশের পর রাজনীতির বাতাস পাল্টাতে দ্রুতবেগে শুরু করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের একদফা দাবীতে বিরোধী জোটের তিনমাসের আল্টিমেটামকে ঘিরে ঘনীভূত হচ্ছে রাজনীতির বাতাস। ক্রমে রাজনীতির অঙ্গন অস্থির হয়ে উঠছে। ছাইচাপা আগুনের মতো ভয়ংকর ও বিপদাপন্ন হয়ে পড়ছে ভেতরের ও চারপাশের পরিবেশ। সরকারে থাকা মহাজোট ও বিরোধী দলে থাকা বড়জোটের মধ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনার ব্যাপারে জোর দিচ্ছেন দেশি-বিদেশি রজনীতি-বিশ্লেষকগণ।

মিডিয়াও আলোচনার পথ তৈরির জন্য জনমত গঠনে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষে প্রবাহিত হতে শুরু করেছে রাজনীতির পরিবর্তিত আবহাওয়া। আর সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক পরিবেশের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিরোধী দল বিএনপিও যেন তার সহযোগীদের নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে। দলটি জোটবদ্ধভাবে এখন আন্দোলনের চূড়ান্ত প্রস্তুতির পথে ধাবমান। সম্প্রতি পার্টির নির্বাহী পরিষদের সভায় চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জানিয়েছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি যদি সরকার না মানে, তাহলে সরকার পতনের একদফা আন্দোলন আরম্ভ করবেন তারা।

১৮ এপ্রিল ২০১২ বিএনপির নেতৃত্বে ১৮ দলীয় জোটের আত্মপ্রকাশ রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের আভাস বহন করছে। কেননা, বাংলাদেশের রাজনীতিতে জোট গঠন এবং স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামে বেগম খালেদা জিয়ার অর্জন ইতিহাসের উপাদান হয়ে আছে। তিনি এরশাদের স্বৈরশাসন এবং আওয়ামী লীগের আগ্রাসি প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে পরীক্ষিত আপসহীন নেত্রী হিশেবে ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠা ও প্রশংসা অর্জন করেছেন।

এবারও তিনি ১৮ দলীয় জোট গঠন করে ফ্যাসিবাদী শাসকগোষ্ঠীর কবল থেকে সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকার ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রবল প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। ১৮ দলের জোট গঠনের ঘোষণা প্রদানকালে বেগম খালেদা বলেছেন: ‘সরকারের স্বৈরনীতি ও ব্যর্থতার বিরুদ্ধে সমগ্র জনগণ আজ ঐক্যবদ্ধ। আমাদের অপ্রতিরোধ্য আন্দোলরের জয় হবে।’ জাতীয়তাবাদ ও ইসলামি আদর্শের মূল্যবোধে উজ্জীবিত এই ১৮ দলের জোটবদ্ধ আন্দোলনে গণতন্ত্রকামী মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য কাজ করতে পারবে বলে রাজনীতি ও সমাজ-বিশ্লেষকরা আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন। বর্তমান ১৪ দলীয় জোট সরকারের জনস্বার্থবিরোধী, রাষ্ট্রঘাতী, সংবিধানবিরোধী, জনগণের ধর্মবিশ্বাসবিরোধী, স্বৈরাচারী, অগণতান্ত্রিক ও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড, সাধারণ নাগরিকের ভোটাধিকার নস্যাতের ষড়যন্ত্র এবং সরকার পরিচালনায় ব্যর্থতার জন্য রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত বলে মনে করেন নতুন এই বড় জোটের নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

তিনি দেশবাসীকে জানিয়েছেন যে, সরকারের জনস্বার্থবিরোধী ফ্যাসিবাদী আচরণের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্প্রবর্তনের প্রয়োজনেই এই ১৮ দলীয় জোটের আত্মপ্রকাশ। বর্তমান রাজনীতির পরিপ্রেক্ষিতে, অন্তত এমনটা আশা করা চলে যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবী অদায়ে কিংবা জাতীয় স্বার্থরক্ষার প্রয়োজনে সরকার পতনের আন্দোলনে এই জোট ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হয়তো সক্ষম হবে। তবে প্রধান বিরোধীদল বিএনপির নেতা-কর্মীদের মনে রাখতে হবে, নতুন জোটবদ্ধ দু-একটি দল বাদ দিলে বাকি দলগুলোর ভোটারের সংখ্যা নেহায়েত হাতে গোনা; আর জনগণ বর্তমান ১৪ দলীয় জোটের কর্মকাণ্ডে হতাশ বলে সবাই দলে দলে ১৮ দলীয় জোটকে ভোট দেবে এমনটাও ভাবা ঠিক হবে না। তাই, ফ্যাসিবাদী চিন্তার বিপরীতে উন্নয়নের রাজনীতির বারতা নিয়ে ভোটারের সামনে হাজির হতে না পারলে বৃহৎ এই জোটের পক্ষে সফলতা অর্জন করা একঅর্থে সত্যিই কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

অবশ্য মহাজোট সরকারের প্রধানতম অংশীদার দল জাতীয় পার্টিও সম্প্রতি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবীর সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছে। এটা ১৮ দলীয় জোটের জন্য বাড়তি সুসংবাদ। সম্প্রতি সুনামগঞ্জে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে সাবেক স্বৈরশাসক এরশাদ এই ঘোষণা দেন। এছাড়া তিনি সংঘাত আর বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধেও সোচ্চার হয়ে উঠেছেন। এতে সরকারে থাকা প্রধান দল আওয়ামী লীগের সাথে তার শরিকদের সম্পর্ক শিথিল হচ্ছে বলেও রাজনীতিবোদ্ধাদের অভিমত। তারপরও, দুঃখজনক ব্যাপার হলো আওয়ামী লীগ নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রশ্নে রাজনৈতিক সংলাপ করতে আগ্রহী নয়। যদিও দেশের ৪১ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব পালনকারী ও বর্তমানে প্রধান বিরোধী দলের অবস্থানে থাকা বিএনপি এবং তার শরিকরা সংলাপে বসতে প্রস্তুত রয়েছে। গণতন্ত্রের প্রতি আস্থাশীল বিভিন্ন দেশ চায় সরকার এই সংলাপ আরম্ভ করুক।

কোনো কোনো কূটনীতিক এ বিষয়ে সরাসরি অভিমতও প্রকাশ করেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি ওয়েন্ডি আর শেরম্যান সব দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যাপারে তাঁর দেশের পরিষ্কার অবস্থানের কথা জানানোর পর সংলাপের প্রাসঙ্গিকতা আরো স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সরকার কাঠামো এবং গণতন্ত্র যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মহলের প্রখর দৃষ্টি রয়েছে এখন বাংলাদেশের চলমান রাজনীতির দিকে। ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। তবে ভিনদেশি চাপ বাড়তে থাকলে আমাদের স্বকীয়তা বিনষ্ট হয়ে পড়তে পারে বলে অনেকে আশংকা করছেন। এভাবে অন্যের অনুরোধ বা চাপের কাছে নতি স্বীকার করলে গণতন্ত্রের চর্চা বাধাগ্রস্ত হয়; জাতিও কোনো-না-কোনোভাবে তার সম্ভ্রম হারায়।

ফলে কোনো স্বার্থান্বেষী ও ক্ষমতালোভী মহলের অগণতান্ত্রিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। সার্বিক বিষয় বিবেচনায়, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার জন্য এবং নাগরিকের মৌলিক ও প্রাপ্য অধিকার সমুন্নত রাখার প্রয়োজেনে, এখন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের প্রধান দায়িত্ব হবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের সাথে ইতিবাচক সংলাপের আয়োজন করা। আর তা না হলে, মহাজোট অতীতে পাওয়া বিপুল জনসমর্থন হারাতে পারে।

রাজনীতির চলমান সংকটের সাথে যুক্ত হয়েছে বিএনপির সিলেট জেলার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলীর গুম হওয়ার ঘটনা। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজনীতির বাতাস ঘোলাটে হয়ে উঠেছে। সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বাড়ছে রাজনৈতিক সংশয় ও উত্তেজনা। ইলিয়াস নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বহীন ও হালকা মন্তব্যে দেশে-বিদেশে বাংলাদেশীরা হতাশ হয়েছেন। দেশে-দেশে প্রবাসী বাংলাদেশীরা সংগঠিত ও প্রতিবাদী হয়ে উঠেছে।

‘বিএনপির নেত্রী ইলিয়াস আলীকে লুকিয়ে রেখেছেন’ রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার, এই ধরনের অপ্রত্যাশিত মন্তব্য জাতির জন্য অশনি সংকেত বলে বিভিন্ন মহল ধারণা পোষণ করেছে। তাঁর এই জাতীয় কথায় অপরাধীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। ফলে জাতীয় নিরাপত্তাও অনিবার্যভাবে হুমকির মধ্যে পড়বেÑ এতে কোনো সন্দেহ নেই। সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, বিগত সাড়ে তিনবছরে প্রায় একশো মানুষ গুম বা নিখোঁজ হয়েছে। এসবের সুষ্ঠু তদন্ত কিংবা সঠিক বিচারও হয়নি। এই ধরনের সন্ত্রাসের ফলে সরকার এবং রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা-নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস হারাচ্ছে। জনগণের মাল-জানের নিরপত্তাও হুমকির মধ্যে নিপতিত হচ্ছে।

এদিকে সমুদ্র জয়ের বিষয়ে সরকারকে বিরোধী দলের ধন্যবাদ প্রদান ও পরে তা প্রত্যাহারের ঘটনায় জনমনে খানিকটা দ্বিধা ও কিছু প্রশ্নের জন্ম হলেও, অনন্দ-উল্লাসের বাড়াবাড়ির কারণে, সার্বিক অর্থে সরকারের প্রতি জনতার আস্থা কমছে বলেই মনে হয়। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতির ফলে সাধারণ খেটেখাওয়া মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস দেখা দিয়েছে। হতাশার ফলে আত্মহত্যার প্রবণতা ও ঘটনা বাড়ছে। সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান এবং বর্তমানে বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন: ‘দেশ আজ মহাসংকটে’।

গ্যাস-বিদ্যুত-পানির সংকট সমাধানে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ। অন্যদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নামে চলছে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও নেতাদের ধ্বংস করার গভীর ষড়যন্ত্র! জাতীয় বাজেটে মানুষের ভাগ্যপরিবর্তনের কোনো পদক্ষেপ বা সুপারিশ থাকবে কিনা, সে বিষয়েও কথা উঠেছে মিডিয়া ও সচেতন মহলে। নাগরিকের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটে এমন জনমুখী বাজেটের জন্য আশা প্রকাশ করছেন অনেকেই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কী হতে পারে, সে ধারণাও আমাদের আছে। মোটকথা, জনগণ এখন ক্ষুদ্ধ। বিভাজিত ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচন নিয়েও শুরু হয়েছে আইনি জটিলতা। ফলে চাপের মুখে পড়েছে নির্বাচন কমিশনও।

নতজানু এই সরকারের অধীনে কীভাবে নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করবে, সে বিষয়েও রয়েছে নানান জিজ্ঞাসা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অস্থির হয়ে পড়েছে। বেড়ে চলেছে সেশনজট। লাখ লাখ শিক্ষার্থীর জীবনে নেমে আসছে অনিশ্চয়তা। কমছে কর্মসংস্থানের সুযোগ। গত প্রায় সাড়ে তিনবছরে প্রায় ৩৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। শূন্য রয়েছে প্রজাতন্ত্রের প্রায় তিন লাখ পদ। নতুন নতুন বেসরকারি ব্যাংকের অনুমোদন এবং তাতে সরকারদলীয় রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসকদের দৌরাত্ম্য ও প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্যাংক মালিকদের টাকার উৎস নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।

আমার মনে হয়, ঢাকাসহ বড় বড় শহরে ও মহাসড়কে যানজট নিরসন, শেয়ারবাজারের জাতিয়াতি বন্ধ করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানো, পানি-বিদ্যুত-গ্যাস সমস্যার সমাধান এবং মানবাধিকার সংরক্ষণÑ এ সেেবর ক্ষেত্রে সরকারের আরো মনোযোগী ও তৎপর হওয়া প্রয়োজন। তা না হলে বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের প্রতি জনরোষ ও চাপ বাড়বে। বিরোধী জোটের সাথে সাধারণ মানুষের দাবী ও প্রত্যাশার সংযোগ স্থাপিত হলে সরকার পতনের আন্দোলন জমতে বেশি সময় লাগবে না।

আওয়ামী লীগের বিগত শাসনামলে সৃষ্টি হওয়া গডফাদার ফেনীর জয়নাল হাজারীর শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাতের ঘটনায় জনমনে আতঙ্কের মাত্রা বেড়েছে। দেশে পুনরায় সন্ত্রাসবাদের প্রকাশ্য মহড়ার আভাসও অনুমান করছেন সচেতন নাগরিকরা। আবার দুর্নীতির অভিযোগে পদত্যাগ করা রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে দফতরবিহীন মন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করায় সরকারের কর্মকাণ্ডের প্রতি সাধারণ মানুষের তথা ভোটারের আস্থা কমছে।

তারা আগামী নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে হিসাব-নিকাশও আরম্ভ করেছেন হয়তো। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজের বছরতিনেক আগে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানো, তা নিয়ে সরকারের নাটক এবং সম্প্রতি তাঁর সংসদ সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি চাওয়ার ঘটনায়ও বর্তমান মহাজোট সরকার নৈতিকভাবে অসুবিধার মধ্যে রয়েছে।

একদিকে সরকারের খেয়ালী কার্যকলাপ অন্যদিকে বিরোধী জোটের ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস বর্তমান রাজনীতিতে নতুন পাল যুক্ত করেছে। খালেদা জিয়ার পুত্রবধু ডা. জোবায়দা রহমান আগামী নির্বাচনের আগে রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেনÑ এমন আভাস পাওয়া গেছে বিভিন্ন সূত্র থেকে। শিক্ষিত-সৎ ও যোগ্যতার বিচারে তিনি জনগণের মন জয় করতে পারবেন বলে আশা করছে দল ও তাদের সমর্থনকারী জোট। ফলাফল পেতে সময় লাগলেও জিয়া-খালেদার পুত্রবধুর এই আবির্ভাব বিএপির ও তার সমর্থকদের জন্য আপাতত একটা সুখবর। ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে দলটির অভিযাত্রাকে এই নতুন সংযোজন ত্বরান্বিতও করতে পারে।

সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী জার্মান সাহিত্যিক ও লেখক গুন্টার গ্রাস সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি হামলার প্রস্তুতির বিপক্ষে প্রতিবাদ প্রকাশ করার অভিপ্রায়ে একটি কবিতা লেখার জন্য সারাদুনিয়ায় আলোড়ন তৈরি করেছেন। তাঁর কবিতার শিরোনাম ‘যে কথা বলতে হবে’। আগ্রাসি ও ফ্যাসিবাদী শাসকের বিরুদ্ধে পৃথিবী জুড়ে চলছে প্রতিবাদের ঝড়। বাংলাদেশের প্রতিবাদী মানুষের জন্য গুন্টার গ্রাসের কবিতা ও অভিব্যক্তি বিশেষ উদ্দীপনা হিশেবে কাজ করবে বলে অনুমান করা যায়।

ড. ফজলুল হক সৈকত উদ্যোক্তা ও প্রধান সংগঠক,

জাতীয়তাবাদী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফোরাম, বাংলাদেশ

Subscribe
ফিচার -এর আরও সংবাদ