

ফরহাদ হোসেন, লালমোহন (ভোলা) থেকে, মে১৪ : ভোলার লালমোহনে প্রায় অর্ধশত ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর কারণে দূর্ভোগের শিকার উপজেলার ৪ লক্ষধিক মানুষ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সেতুগুলো সংস্কার ও নির্মাণের কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে এ নিয়ে ওইসব এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। সেতুগুলো সংস্কার বা নতুন ভাবে স্থাপণ করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, লালমোহন উপজেলার লাঙ্গলখালী সেতু, হরিগঞ্জ সেতু, ধলিগৌরনগর কলেজ সংলগ্ন সেতু, আলমগীর চেয়ারম্যান বাড়ির সংলগ্ন সেতু, ফরাজগঞ্জ কাঁটাখালী সেতু, গজারিয়া চকিদার বাড়ি সংলগ্ন সেতু, নবগ্রাম সেতু, সিকদার হাট সড়কের বেপারি বাড়ি সংলগ্ন সেতু, বদরপুর নবীনগর বাজার সংলগ্ন সেতু, খালেক হাজি বাড়ি সংলগ্ন সেতু, দেবীর চর বাজার সংলগ্ন সেতু, লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন পাশা পাশি দুইটি সেতু, কাশ্মীর ও ফাতেমাবাদ মধ্যবর্তী সেতু, জিএম বাজার সংলগ্ন সেতু, কাদির চেয়ারম্যান বাড়ির সংলগ্ন সেতু, অন্নদা প্রসাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন সেতু ও কোড়ালমারা সেতু সহ প্রায় অর্ধশত সেতু দীর্ঘ দেড় থেকে দুই যুগ ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে রয়েছে। এ দিকে এতদিন কোন জন প্রতিনিধিরা নজর দেয়নি। যে কোন সময় লালমোহন ডাওরী বাজার বেইলি সেতুর মত বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। ভোলা টু চরফ্যাশন মহা সড়কের লালমোহন উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন লাঙ্গলখালী সেতুটি ভেঙ্গে পড়ার দেড় যুগ পরেও নির্মাণ করা হয়নি। অস্থায়ী ও ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতু দিয়ে যাতায়াত করছে প্রতিদিন শত শত যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক সহ ভারী যানবাহন। অপর দিকে লালমোহন মঙ্গল সিকদার সড়কের হরিগঞ্জ বাজারের ভেইলি সেতুটিও দীর্ঘ দুই যুগ ধরে ভাঙ্গাচুরা অবস্থায় পড়ে আছে। এই পথ দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অসংখ্য যাত্রীবাহী যানবাহন ও মালবাহী ট্রাক চলাচল করে। এছাড়া লালমোহন তজুমদ্দিন সীমান্তবর্তী কোড়ালমারা গ্রামের কলিমুদ্দিন হাওলাদার বাড়ি সংলগ্ন ভেইলি সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ার দীর্ঘ ২০ বছরেও নির্মাণ বা সংস্কার না করায় প্রতিদিন দূর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে দুই উপজেলার অসংখ্য মানুষ। বন্ধ হয়ে গেছে যানবাহন চলাচল। এই ভেইলি ব্রিজটি ১৯৭২ সালের দিকে নির্মাণ করলেও সেই থেকে অস্থায়ী ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি দিয়ে যাতায়াত করছে মানুষ। সেতুটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল ধরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁটাখালী সেতু ও পশ্চিম চর উমেদ ইউনিয়নের পাঙ্গাশিয়া গ্রামের চৌকিদার বাড়ীর সংলগ্ন সেতু নবগ্রাম সেতু, সিকদার হাট সড়কের বেপারী বাড়ির সংলগ্ন সেতু, বদরপুর ইউনিয়নের দেবীর চর বাজার সংলগ্ন সেতু ,নবীনগর বাজার সংলগ্ন সেতু, খালেক হাজির বাড়ির সংলগ্ন সেতু, লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন একই সাথে পাশাপাশি দুইটি সেতু, কাশ্মীরও ফাতেমাবাদ মধ্যবর্তী সেতু, জিএম বাজার সংলগ্ন সেতু, কাদির চেয়ারম্যান বাড়ির সংলগ্ন সেতু, অন্নদা প্রসাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন সেতু,আবাসন প্রকল্প সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় এই সেতুগুলো পথচারিদের জন্য মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ দেড়-দুই যুগ ধরে সেতুগুলোর এ অবস্থা থাকলেও সংশি¬¬ষ্ট কর্তৃপক্ষ এই দিকে নজর দিচ্ছেনা। উপজেলার এই সব দুর্দশাগ্রস্ত প্রায় অর্ধশত সেতুর কারণে দুই উপজেলার হাজার হাজার মানুষ দূর্ভোগ পোহাচ্ছে। ব্যাহত হচ্ছে যানবাহন চলাচল।