সর্বশেষ
  • রাজশাহীতে ছাত্রলীগ কর্মীর লাশ উদ্ধার
  • বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময়
  • নোয়াখালীর সেনবাগে বাস উল্টে নিহত ২
  • আমার দেশ এবং দিগন্ত ও ইসলামিক টিভি চালুর দাবি ১৫ সম্পাদকের
  • বিএনপি সংসদে যাচ্ছে
  • ভবন ধসে অর্থনৈতিক জীবন বিপন্ন: অর্থমন্ত্রী
  • আশুলিয়ার পোশাক কারখানা খুলেছে
  • পাক নাগরিকদের আজমীরে আসতে বারণ!
  • জাতির প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে: মুনতাসির মামুন
  • এসএসসি-তে গড় পাস ৮৯.০৩ শতাংশ
গরমে অতিষ্ঠ নগরবাসী, সহসাই কমছে না তাপপ্রবাহ
Posted Date: 2012-06-11



ঢাকা, জুন১১: গত কয়েকদিন থেকে রাজধানীতে অব্যাহতভাবে তাপমাত্রা বেড়েই চলেছে। ফলে অফিসগামী, মানুষ, শ্রমিক, স্কুলগামী শিক্ষার্থী এবং অল্প বয়সের শিশুরা গরম ও তীব্র তাপদাহে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।


খবর বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমের।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে চলতি মাসের ৭ তারিখে রাজধানীর তাপমাত্রা ছিল ৩১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস , কিন্তু ৮ তারিখে এ তাপমাত্রা বেড়ে দাড়ায় ৩৪.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

৯ তারিখে তাপমাত্রা ছিলো ৩৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ১০ তারিখে তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলেও বাতাসে অতিরিক্ত তাপমাত্রা থাকার কারণে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে মনে হচ্ছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আবহাওয়ার এই অবস্থা চলবে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে।

তবে সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হয়েছে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থরা।  

রাজধানী ঘুরে দেখা গেছে অতিরিক্ত গরমের কারণে রিকশা চালকরা রিকশা চালানো বাদ দিয়ে রাস্তার পাশের ছায়ায় আশ্রয় নিয়ে স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলছে ।

তেমনি একজন রিকশা চালক মোক্তার আলি বাংলানিউজকে বলেন,‘ওডোত(রাস্তা)চরম গরম, তাই এসকা(রিকসা) চালান বাদ দিয়া গাছের নিচোত বসি দম নিতিছোম।’

তিনি আরো বলেন, ‘যখন এসকা চালাই তখন ভালই থাকি, কারন তখন গাওত বাতাস নাগে। কিন্তু যখন ভাড়া মারা শেষ হয় তখন কলজা ফাটি যায়।’

শুধু মোক্তার আলী নয় রাজধানী ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন যাত্রী পরিবহনে বয়স্করা কোন রকম বসে থাকতে পারলেও অতিরিক্ত গরমের কারণে শিশুরা সবচেয়ে অস্বস্তি বোধ করছে।

পলি আক্তার নামের এক নারী তার সাত মাস বয়সী বাচ্চাকে নিয়ে হাসপাতালে  যাওয়ার সময় বাংলানিউজকে বলেন, বাচ্চাকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি কিন্তু গরমের কারণে মনে হয় বাচ্চা আরো অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। গরম সহ্য না করতে পেরে বাচ্চা খুবই কান্নাকাটি করছে।
এছাড়া যাত্রী পরিবহনের শ্রমিকদের অবস্থাও প্রায় একই। সদরঘাট-গাবতলী রুটের ৭ না¤॥^ার পরিবহনের হেলপার আপেল মাহমুদ বাংলানিউজকে বলেন ,‘গরমে কারণে বাইরের সাইড পুড়ে যায়। শুধু ভেতরের সাইড বাসের মধ্যে থাকার কারণে কোন মতে রক্ষা পায়।’
 
উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজের স্টান্ডার্ড সেভেনের ছাত্রী ফারিয়া রহমান বাংলানিউজকে জানায়,‘দীর্ঘ দিন সামার ভ্যাকেশন থাকার পর আজকে প্রথম স্কুল খুলছে, তবে গরমের কারণে মনে হয়না স্কুল কন্টিনিউ করতে পারবো।’
 
অতিরিক্ত গরম প্রসঙ্গে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো:আবুল কালাম মল্লিক বাংলানিউজকে বলেন,‘বাতাসে আদ্রঁতার পরিমান বেশি থাকার কারণে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে এখন ৪০ ডিগ্রি বলে মনে হয়।’

তবে মৌসুমি বৃষ্টিপাত হলে তাপমাত্রা কমে আসবে বলে জানান তিনি। মৌসুমি বৃষ্টিপাতের জন্য নগরবাসীকে আরো দুই তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে বলে ধারণা করছে আবহাওয়া দপ্তর।
 
তবে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিলেটের ওপর দিয়ে মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হতে পারে বলে জানানো হয়। তবে সারা দেশে এ বায়ু প্রবাহ শুরু হতে আরো ২ থেকে ৩ দিন লাগতে পারে।

মৌসুমি বায়ু প্রবাহ শুরু না হওয়া পর্যন্ত তাপমাত্রা আরো বাড়বে বলে বাংলানিউজকে জানান রাজধানীর আগারগাওয়ে অবস্থিত আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আয়শা খাতুন।

তিনি বলেন, বছরের এই সময় সূর্যের কিরণ ল¤॥^াল¤ি॥^ভাবে ভূপৃষ্ঠে আপতিত হওয়ার কারণে অধিক তাপমাত্রা অনুভূত হয়।
সাধারণত জুন থেকে সেপ্টে¤॥^র মাস বর্ষাকাল এবং মার্চ থেকে মে পর্যন্ত প্রাক বর্ষাকাল। প্রাক বর্ষাকালের কারণে তাপমাত্রা বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মৌসুমি বায়ু প্রবাহ দক্ষিণ এশিয়ায় ৬ মাস উত্তর পূর্ব দিক থেকে এবং ৬ মাস দক্ষিণ পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়।  

Subscribe
ফিচার -এর আরও সংবাদ