সর্বশেষ
  • নোয়াখালীর সেনবাগে বাস উল্টে নিহত ২
  • আমার দেশ এবং দিগন্ত ও ইসলামিক টিভি চালুর দাবি ১৫ সম্পাদকের
  • বিএনপি সংসদে যাচ্ছে
  • ভবন ধসে অর্থনৈতিক জীবন বিপন্ন: অর্থমন্ত্রী
  • আশুলিয়ার পোশাক কারখানা খুলেছে
  • পাক নাগরিকদের আজমীরে আসতে বারণ!
  • জাতির প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে: মুনতাসির মামুন
  • এসএসসি-তে গড় পাস ৮৯.০৩ শতাংশ
  • এ রায়কে ইতিহাস কখনো ক্ষমা করবে না : কামারুজ্জামান
  • কড়া নিরাপত্তায় বিএনপির ঢিলেঢালা হরতাল
৩০কোটি টাকার চিনি বিক্রি না হওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে চাষীরা
Posted Date: 2012-03-31



এসএস মিঠু, জয়পুরহাট : সরকার নির্ধিারিত দরের চাইতে খোলা বাজারে বেসরকারি মিল ও বিদেশ থেকে আমদানি করা চিনির মুল্য অপেক্ষাকৃত কম হওয়ায় দেশের বৃহত্তম চিনিকলÑ জয়পুরহাট সুগার মিলস্ লিমিটেডের প্রায় ৩০কোটি টাকা মূল্যের ৫হাজার ৬শ’ মেট্রিক টন চিনি গুদামে অবিক্রিত পড়ে রয়েছে।  সে কারনে নগদ অর্থের অভাবে মিল কর্তৃপক্ষ গত মাড়াই মৌসুমে মিলে চাষীদের সরবরাহ কৃত আখের মূল্য বাবদ পাওনা পৌনে ২কোটি টাকা যেমন পরিশোধ করতে পারছেন না। তেমনি একই কারনে গত ফেব্র“য়ারি মাস থেকে বন্ধ রয়েছে অফিসার ও শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ভাতা প্রদান সহ মিলে মালামাল সরবরাহকারি প্রতিষ্ঠান ও ঠিকাদারদের পাওনা টাকা পরিশোধ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবার মাড়াই মৌসুমে জয়পুরহাটে ৬৩হাজার ৯১মেট্রিক টন আখ আহরন করা হয়। যা থেকে থেকে চিনি উৎপাদন হয় মোট ৪হাজার ২৯৪মেট্রিক টন। এ ছাড়া বিগত রমজান মাসের আগে বাজারের চাহিদা মেটাতে করপোরেশন থেকে ১হাজার ৬৬৫মেট্রিক টন চিনি জয়পুরহাট চিনিকলে সরবরাহ করা হয়েছিল। এ নিয়ে বর্তমানে চিনিকল গুদামে(গোডাউনে) চিনির মোট মজুতের পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার ৬শ’ মেট্রিক মেট্রিক টন। প্রতিকেজি বিক্রয় মূল্য ৫৫ টাকা হিসেবে যার মোট মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা। কিন্তু বাজারে আমদানি করা অন্যান্য চিনি’র দাম কম হওয়ায় এ পর্যন্ত কোন ডিলারই চিনি সংগ্রহ করছেন না। বাজারে বর্তমানে বেসরকারি ভাবে আমদানিকৃত চিনি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫৪ থেকে ৫৭ টাকা দরে। আর জয়পুরহাট চিনিকলে উৎপাদিত চিনির সরকার নির্ধারিত পাইকারী মূল্য প্রতিকেজি ৫৫ টাকা। এতে পরিবহন খরচসহ প্রতিকেজির খুচরা মূল্য তুলনামূলক বেশি হওয়ায় উৎকৃষ্টমানের হলেও ক্রেতারা এ চিনি কিনছেন না। যার কারণে লোকসানের আশঙ্কায়  জয়পুরহাটের চিনি সংগ্রহে ডিলার বা চিনি ব্যবসায়ীরাও এগিয়ে আসছেন না। তবে লোকসানের অজুহাতে ডিলাররা চিনি সংগ্রহ না করলেও টন প্রতি প্রত্যেক ডিলারের কাছ থেকে ২০০ টাকা হারে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে বলে চিনিকল সুত্রে জানা গেছে। সুত্রটি জানায়,এই জরিমানা চিনিকলের পাইকারী ১৮জন এবং খুচরা ১৫জন ডিলারের জন্যই ধার্য করা হয়েছে এবং জামানত থেকে তাদের টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। ফলে চিনি অবিক্রিত থাকায় আখচাষীদের পাওনাসহ চিনিকল শ্রমিক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতনও সময় মত পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অথচ প্রতি আখ মাড়াই মৌসুমে মিলে নতুন চিনি উৎপাদন শুরু হবার পর থেকে চিনি কিনতে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে  আসা চিনি ব্যবসায়ীদের ভিড় লেগে যায় জয়পুরহাট সুগার মিলে। ডিলাররাও কোঠা অনুযায়ী তাদের চিনি উত্তোলন করে থাকেন।  কিন্তু এবারের চিত্র ঠিক তার উল্টো। গত তিন মাসে স্থানীয় ডিলারদের মধ্যে হাতে গোনা দু’একজন মাত্র দুই’এক টন করে যত সামান্য  চিনি কিনলেও বাইরের কোন পার্টি (ব্যবসায়ী) এখানে  চিনি কিনতে আসেন নি।এমনি অবস্থায় এবারের ( ২০১১-২০১২ইং মাড়াই মৌসুমের ) উৎপাদিত বিপুল পরিমান চিনি অবিক্রিত থাকায় মিল কর্তৃপক্ষ পড়েছেন চরম অর্থ সংকটে। জয়পুরহাট সুগার মিলের গোডাউন ইনর্চাজ নূর মোহাম্মদ জানান, বলতে গেলে গত জানুয়ারি থেকেই মিলে চিনি বিক্রি নাই, অথচ অন্যান্য মৌসুমের এ সময় এখান থেকে প্রতিদিন ট্রাকে ট্রাকে চিনি বিক্রি হতো। প্রতি মাসে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও আনুসঙ্গিক ব্যয় বাবদ এ মিলে প্রায় ১কোটি টাকার প্রয়োজন হয়।কিন্তু চিনি বিক্রি না হওয়ায় বেকায়দায় পড়েছেন মিলের শ্রমিক নেতারাও।  এ দিকে পাওনা টাকা নিতে প্রতিদিন মিলে ধর্না দিচ্ছে শত শত আখচাষী। দিনের পর দিন মিলে ধর্না দিয়েও টাকা না পেয়ে অনেকে নগদ টাকার জন্য শতকরা ১০থেকে ১২টাকা কমে দালালদের কাছে ‘পাওনা টাকার রশিদ’ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। পাওনা টাকা নিতে আসা জয়পুরহাট সদর উপজেলার ধলাহার গ্রামের অটোরিক্সা চালক আব্দুর রশিদ বলেন, ‘ডিসেম্বরে চিনিকলে আখ বিক্রির পর এখনও ২৬ হাজার টাকা পাওনা আছে। দীর্ঘদিন ধর্ণা দিয়েও টাকা না পেয়ে প্রয়োজনের স্বার্থে অবশেষে শতকরা ৭ টাকা কমে আখ জমার দুটি রশিদ বিক্রি করে ৭ হাজার টাকা পেয়েছি’। মহরুল গ্রামের আখচাষী আনিছুর রহমান বলেন,‘এক লাখ টাকার আখ বিত্রি করে এ পর্যন্ত ৫৯ হাজার টাকা পেয়েছি। বাঁকি ৪১ হাজার টাকা নেয়ার জন্য অন্তত দশ দিন চিনিকলে এসেছি। কিন্তু তাদের সাফ কথা, টাকা না থাকলে দিব কোথা থেকে। তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, এভাবে কৃষকদের হয়রানী করলে আগামীতে কেউ আখচাষ করবে না। একই অভিযোগ করেন সদরের ভাদসা গ্রামের আখচাষী মাহমুদ হোসেন, আব্দুর রহমান, আমজাদ হোসেন, আউশগাড়া গ্রামের হাজি আব্দুর রহমানসহ অনান্যরা। কেন মিলের চিনি উত্তোলন করছেন না? Ñ এ প্রশ্নের জবাবে জয়পুরহাট শহরের পূর্ব বাজারের বিশিষ্ট  চিনি ব্যবসায়ী  ও জয়পুরহাট চিনিকলের পাইকারী ডিলার সামছুল আলম  ও আব্দুস ছালাম বলেন, বর্তমানে বাজারে তারা চিনি বিক্রি করছেন ৫৭ টাকা কেজি দরে। যে চিনি তারা সংগ্রহ করছেন ৫৩ টাকা কেজি হিসেবে। পক্ষান্তরে জয়পুরহাটের চিনি’র পাইকারী মূল্য কেজি প্রতি ৫৫ টাকা। পরিবহন খরচ দিয়ে এই চিনি কমপক্ষে ৬০ টাকা পড়বে। মান ভাল হলেও কেজি প্রতি ২/৩ টাকা বেশীর কারণে সাধারণ ক্রেতারা এই চিনি ক্রয়ে আগ্রহী না হওয়ায় তাদের লোকসান গুনতে হবে। যার ফলে তাদের মত অন্যান্য ডিলাররাও এখন জয়পুরহাট সুগার মিলের চিনি কিনছেন না। এ ব্যাপারে জয়পুরহাট সুগার মিলস্ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো:শহিদ উল্লাহ আর্থিক সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, বর্তমানে ৩০কোটি টাকা মূল্যের ৫হাজার ৬শ’ মেট্রিক টন চিনি অবিক্রিত রয়েছে । সে কারনে নগদ অর্থের অভাবে আখচাষীদের আখের মূল্য বাবদ পাওনা পৌনে ২কোটি টাকা পরিশোধ করা যাচ্ছে না। শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাও দেয়া যাচ্ছে না। সরকার নির্ধারিত মূল্য অপেক্ষা খোলা বাজারে  চিনির মূল্য কম হওয়ার কারনেই এখন  মিলের চিনি বিক্রি হচ্ছে না।তবে এ অবস্থা বেশিদিন থাকবে না।ধারনা করা হচ্ছেÑ আগামী ২/৩মাস পর চিনির দাম বাড়বে। কারণ ডলারের দাম বাড়ছে Ñ দাবি তার। আর চিনির বাজার বৃদ্ধি পেলে এ সমস্যাও কেটে যাবে ।


Subscribe
কৃষি সংবাদ -এর আরও সংবাদ