

স্টাফ রিপোর্টার, এপ্রিল২ : ফেনী নদী বছরের পর বছর গিলে খাচ্ছে বাড়িঘর ফসলী জমি। কৃষিজমির পাশাপাশি বসতভিটা হারিয়ে গৃহহারা হচ্ছেন অনেকেই। তাদের কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়া হয় না । বাড়িঘর হারিয়ে অনেক এখন নিঃস্ব। ফেনী নদী ভাঙছে। বছরের পর বছর এ ভাঙনে নদীর পেটে হারিয়েছে অসংখ্য বসতভিটা এবং কৃষিজমি। বিলীন হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের বহু স্মৃতিবিজড়িত আমলীঘাট বাজার। এ নিয়ে সরকারের কোনো উদ্যোগও নেই। ফেনী নদীর ভাঙনের সবচে বেশি শিকার মিরসরাইয়ের চার নম্বর ধুম ইউনিয়নের মোবারকঘোনা ও শুক্কুরবারইয়াহাট গ্রাম। ভাঙন কবলিত এ দুই গ্রামের হাজারো মানুষ বিক্ষিপ্তভাবে মাথাগোঁজার ঠাঁই করে নিয়েছেন। কেউ রাস্তার পাশে ঝুঁপড়িতে, কেউবা বস্তিতে। রোদ-বৃষ্টি এদের জীবনে সমানে সমান। কেবল এ দুই গ্রাম নয়, ফেনী নদীর পেটে মিলে গেছে করেরহাট ইউনিয়নের অলিনগর, আমলীঘাট, আজমনগর গ্রামের অসংখ্য বাড়িঘর। প্রতিমূহুর্তেই ভেঙে নদীর পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষিজমি। সব স্থানেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে পাইপের মাধ্যমে। নদীর তলদেশ থেকে সংগ্রহ করে ওপরে স্তুপ করে রাখা পর্যন্ত নানা প্রক্রিয়ায় কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। নদীর মধ্যবর্তী স্থানের ন্যায় ধারের বালু উত্তোলন করার ফলে ভাঙনের সূত্রপাত ঘটে। জানা গেছে, মহামায়া সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্প এলাকার পাহাড়গুলোতে বসবাসকারী বাসিন্দাদের ৯০ শতাংশ ভাঙন কবলিত। অলিনগর, গুচ্ছগ্রাম, মোবারকঘোনাসহ বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পগুলোতে তাদের ঠাঁই হয়নি। সেখানে আশ্রয় পেতেছে প্রভাবশালী চক্র। পূর্ব দুর্গাপুর এলাকায় পাহাড়ে বসবাসরত বাসিন্দা আবুল হোসেন ও নুরুল ইসলাম বলেন, “ভাঙনে যখন বসতভিটা হারিয়ে পথে বসে যাই, তখন অনেক চেষ্টা করেও আবাসন প্রকল্পে বসবাসের সুযোগ পাইনি। পরবর্তী বিভিন্ন সময় পথের ধারে অস্থায়ী তাঁবু টানিয়ে রাত কাটিয়েছি। গত আট বছর ধরে বাস করছি পাহাড়ের পাদদেশে। ফেনী নদীর ভাঙন রোধে গত বছর উদ্যোগ নিয়েছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। ওই বছরের ২৫ জুলাই ৩৬ লাখ টাকার ড্যাম্পিং কাজের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ভাঙন প্রতিরোধের প্রাথমিক পদক্ষেপ নেয়া হয়। কিন্তু কাজে নিম্নমান ও ব্লক মানসম্মত না হওয়ায় সেই প্রতিরোধক ব্যবস্থাও ভেস্তে যায়। ফলে ভাঙন চলতে থাকে আগের ন্যায়। বর্তমানে ভাঙন প্রতিরোধে সরকারের নতুন কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানালেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদ্বয়।