সর্বশেষ
  • রাজশাহীতে ছাত্রলীগ কর্মীর লাশ উদ্ধার
  • বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময়
  • নোয়াখালীর সেনবাগে বাস উল্টে নিহত ২
  • আমার দেশ এবং দিগন্ত ও ইসলামিক টিভি চালুর দাবি ১৫ সম্পাদকের
  • বিএনপি সংসদে যাচ্ছে
  • ভবন ধসে অর্থনৈতিক জীবন বিপন্ন: অর্থমন্ত্রী
  • আশুলিয়ার পোশাক কারখানা খুলেছে
  • পাক নাগরিকদের আজমীরে আসতে বারণ!
  • জাতির প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে: মুনতাসির মামুন
  • এসএসসি-তে গড় পাস ৮৯.০৩ শতাংশ
সুনামগঞ্জে হাওরে ধান কাটার প্রস্তুতি
Posted Date: 2012-04-11

 সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি  : বৈশাখ দুয়ারে কড়া নাড়ছে। ধানের সবুজ শিষের রং লালচে হতে শুরু করেছে। সেই রং লেগেছে কৃষকের মনে। হাওরে প্রস্তুতি চলছে নতুন ধান কাটার। ধান কেটে মাড়াই করা ও শুকানোর জন্য খলা তৈরির কাজে ব্যস্ত াওরপাড়ের কিষানীরা। সেই কাজে যোগ দিয়েছে বাড়ির শিশুরাও।  
বুধবার দুপুরে সুনামগঞ্জের দেখার হাওরপাড়ের আবদুল্লাহপুর গ্রামে গিয়ে এই দৃশ্য দেখা যায়। সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের আবদুল্লাহপুর গ্রামের সত্তরোর্ধ কৃষক আবদুল কাদির জানান, দেখার হাওরে তাঁর সাত একর জমি রয়েছে। জমির ধান পাকতে শুরু করেছে। কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। এ জন্য হাওরপাড়ে খলা তৈরির কাজ চলছে। এক মাস এসব খলাতে কাটা ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজ করা হবে। পরে ধান গোলায় তোলা হবে। কৃষক সমুজ মিয়া (৫২) জানান, এবার হাওরে ফসল ভালো হয়েছে। তবে চৈত্র মাসের শুরুর দিকে বৃষ্টি হলে ফসল আরও ভালো হতো। দেখার হাওরের ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ বৈশাখ মাসের ১৫ তারিখের মধ্যেই শেষ হয়ে যায় বলে জানান তিনি। চার দিন ধরে সুনামগঞ্জে বৃষ্টি হওয়ায় ফসল নিয়ে খানিকটা আশঙ্কা প্রকাশ করেন কৃষক জামাল উদ্দিন (৪৫)। তিনি বলেন, দিনের অবস্থা তো ভালা না। বৈশাখ মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত দিন ভালা না পাইলেত ধান কাটা-মাড়াই নিয়া সমস্যা অইব। খলা তৈরির কাজে থাকা কিষানী রিনা বেগম (৩৮) জানান, বৈশাখজুড়েই বাড়ির সবাই ব্যস্ত থাকবে নতুন ধান নিয়ে। ধান কাটা, মাড়াই, শুকানো থেকে শুরু করে গোলায় তোলা পর্যন্ত সব কাজেই ঘরের সব বয়সীরা যোগ দেয়। আরেক কিষানী আমেনা বেগম (৪২) বলেন, বৈশাখ মাস আমরার নতুন ধান ঘরও তোলার মাস। দিন-রাত কাজ করি। কষ্ট অইলেও মনে আনন্দ লাগে।
জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জে এবার এক লাখ ৯২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে সাত লাখ মেট্রিক টন।
কৃষি বিভাগের উপরিচালক এস এম আফসারুজ্জামান জানান, আর সপ্তাহ খানেক পরেই হাওরে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে। এপ্রিল মাস পর্যন্ত কোনো সমম্যা না হলে হাওরের ৭০ ভাগ ধান কাটা শেষ হয়ে যায়। তিনি বলেন,এখন আগাম বন্যা না হলেই হয়। তবে আগাম বন্যার হাত থেকে ফসল রক্ষা করতে হাওরের কৃষকদের আগাম জাতের ধান লাগানোর চিন্তা করতে হবে।

Subscribe
কৃষি সংবাদ -এর আরও সংবাদ