

মিরসরাই প্রতিনিধি, ২৩মে: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে ১০ হাজার হেক্টর আবাদী জমিতে। সাগরের লবণাক্ত পানিতে প্লাবিত হচ্ছে এ উপজেলায় সাতটি উপকূলীয় ইউনিয়ন। এতে ফলনের অযোগ্য হয়ে গেছে ১০ হাজার ৬৭২ হেক্টর আবাদী জমি।
সূত্র জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৃষ্টিপাত অনিয়মিত হয়ে যাবে। এতে পরিবর্তন হবে ফসল উৎপাদনের মৌসুম। কৃষকরা সঠিক সময়ে জমিতে সঠিক ফসল উৎপাদন করতে পারবে না। ফলে এ উপজেলায় খাদ্য ঘাটতিসহ কৃষকরা দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির সম্মুখীন হবে। জমিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ার কারণে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটবে।
মিরসরাই কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সাতটি উপকূলীয় ইউনিয়নের মোট আবাদী জমির পরিমাণ ১০ হাজার ৬৭২ হেক্টর। মিরসরাইয়ের পাঁচ নম্বর ওচমানপুর ইউনিয়নের এক হাজার ১৯০ হেক্টর, ছয় নম্বর ইছাখালী ইউনিয়নের তিন হাজার ২৬২ হেক্টর, আট নম্বর দুর্গাপুর ইউনিয়নের এক হাজার ৩৪১ হেক্টর, ১০ নম্বর মিঠানালা ইউনিয়নের এক হাজার ৪৮১ হেক্টর, ১৩ নম্বর মায়ানী ইউনিয়নের এক হাজার ৪০ হেক্টর, ১৪ নম্বর হাইতকান্দি ইউনিয়নের এক হাজার ৬০ হেক্টর এবং ১৬ নম্বর সাহেরখালী ইউনিয়নের এক হাজার ২৯৮ হেক্টর জমিতে আমন, বোরো এবং আউশ ধানের চাষ হয়।
এসব ইউনিয়ন উপকূলীয় এলাকায় হওয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বঙ্গোপসাগর থেকে জোয়ারের সময় লবণাক্ত পানি প্রবেশ করে ফসলী জমি প্লাবিত হচ্ছে। এতে কৃষি জমিতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশংকা রয়েছে।
এসব এলাকা উপকূলীয় এবং বঙ্গোপসাগরের পাশ্ববর্তী হওয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনে এসব অঞ্চলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। কেবলমাত্র আবাদী জমি নয় জলবায়ু পরিবর্তনের পর সমুদ্রের পানি উপরে উঠে আশপাশের এলাকা প্লাবিত হতে পারে। আর এতে প্রাণহানিরও আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়নের চাষাবাদ পাহাড়ি ঝরনার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু অনাবৃষ্টি, খরা ও অতিবৃষ্টির ফলে এসব ইউনিয়নের চাষাবাদে বিপর্যয় নেমে আসার আশংকা দেখা দিয়েছে।
মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আইউব আলী জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কজনক। এর প্রভাবে মিরসরাইয়ের উপকূলীয় এলাকাসমূহে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এ মুহূর্তে এর প্রতিরোধে এবং সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কোনো কর্মসূচি নেই বলেও জানান তিনি।
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন জানান, উপকূলীয় অঞ্চলসমূহে পানির স্তর উপরে উঠে গিয়ে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। মিরসরাইয়ের প্রায় অর্ধেক আবাদী এলাকা সমুদ্র উপকূলে হওয়ায় এখানে ক্ষতির পরিমাণ বেশি হওয়ারিআশঙ্কা রয়েছে। তবে সরকারিভাবে এখনো কোনো প্রতিরোধ কর্মসূচি নেই।
মিরসরাই উপজেলা চেয়ারম্যান মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, সরকারের উচ্চপর্যায়ে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। উপজেলা পর্যায়ে যখনই কোনো কর্মসূচি নিবে তখন মিরসরাইতে ব্যাপকভাবে এর সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করা হবে। তবে ক্রমান্বয়ে উপকূলীয় এলাকায় বনায়নের মাধ্যমে প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি জানান।