

ঢাকা : আজ ১ জুলাই রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় দিবসটি পালন করা হচ্ছে। আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৯২ বছরে পা দিয়েছে । ১৯২১ সালের এই দিনে পূর্ববঙ্গের পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে প্রতিষ্ঠা করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার তার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে ভবিষ্যতে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা নিয়ে পালন করছে ৯১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
এ ছাড়াও রয়েছে অবিস্মরণীয় আরেকটি ঐতিহাসিক ঘটনা। ১৯৪৯ সালের এদিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনে নামে। আন্দোলনের পাশে এসে দাঁড়ান বিশ্ববিদ্যালয়েরই আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এক কৃতী শিক্ষার্থীসহ আরো কয়েকজন ছাত্র। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল আইন বিভাগের সেই শিক্ষার্থীসহ ছয় ছাত্রকে সাময়িক বহিষ্কার করে এবং ১৫ টাকা জরিমানা করে। এ ছাড়া এ ছয় শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে ভালো আচরণ করব এমন মুচলেকা দিতে সময় বেঁধে দেয়া হয়। বাকিরা মুচলেকা দিয়ে ছাত্রত্ব ফিরে পেলেও আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের এ অন্যায় আদেশ না মেনে বহিষ্কার হন। পরবর্তী সময় সেই আপসহীন তরুণ পরিণত হন বাঙালি জাতির সব প্রেরণার উৎস। স্বাধিকার আদায়ের সেই উত্তাল দিনগুলোতে তিনি ছিলেন বিদ্রোহের অনির্বান। ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬-এর ছয়দফা, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যূত্থান এবং সর্বোপরি স্বাধীনতা সংগ্রামে অনন্য সাধারণ ভূমিকার রেখে তিনি পরিণত হন বাঙালি জাতির মহানায়কে। সেই শিক্ষার্থীই ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পরবর্তী সময় বঙ্গবন্ধুর মতোই দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সবসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকরা রাখেন সর্বোচ্চ ভূমিকা। ছাত্র-শিক্ষকদের সেই সম্মিলিত প্রয়াস আজও অব্যাহত রয়েছে।
কেবল আন্দোলন-সংগ্রাম নয়; প্রতিষ্ঠার পর থেকে জ্ঞান চর্চার পাদপীঠে পরিণত হয় এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। উপমহাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়কে পেছনে ফেলে অর্জন করে ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ খ্যাতি। বিভিন্ন সমস্য অতিক্রম করে বিশ্ববিদ্যালয় সমনে এগেয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এসব সমস্যাকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে চান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এই প্রেরণা নিয়ে আজ পলিত হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য দনারীর ক্ষমতায়নে উচ্চশিক্ষা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, সামাজিক-সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক অগ্রগতির জন্যই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল। সে লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে প্রতিষ্ঠানটি। তিনি বলেন, সীমিত সুযোগের কারণে জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত আন্তর্জাতিক মানের সুবিধা দেয়া যাচ্ছে না।
গতকাল শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের এক টেলিভিশন প্রোগ্রামে বিশেষ সাক্ষাৎকারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র, বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান বলেন, জাতির বিভিন্ন দুর্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবচেয়ে অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করে। সব আন্দোলন সংগ্রামের সূতিকাগার এই বিশ্ববিদ্যালয়।