

স্টাফ রিপোর্টার: জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের প্রকাশিতব্য উপন্যাস ‘দেয়াল’-এ বঙ্গবন্ধু হত্যা-সংক্রান্ত তথ্য সংশোধন করার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। ১২ দিনের মধ্যে তথ্য ও শিক্ষাসচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এই রুল জারি করেন। একই সঙ্গে আদালত তথ্যগত বিভ্রান্তি হুমায়ূন আহমেদকে জানাতে দুই সচিবকে বলেছেন।
তথ্য সংশোধন না করা পর্যন্ত প্রকাশিতব্য দেয়াল উপন্যাসের প্রকাশ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আলতাফ হোসেন।
১১ মে প্রথম আলোতে হুমায়ূন আহমেদের প্রকাশিতব্য দেয়াল উপন্যাসের দুটি অধ্যায় ছাপা হয়। সেখানে শেখ রাসেলের মৃত্যুর দৃশ্য ও খন্দকার মোশতাকের ভূমিকা বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় যেভাবে উঠে এসেছে, সেভাবে নেই উল্লেখ করে বিষয়টি গতকাল সোমবার আদালতের নজরে আনেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আজ শুনানি নিয়ে আদালত এ আদেশ দেন।
যোগাযোগ করা হলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, ‘দেয়াল উপন্যাসের দুটি অধ্যায় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। মামলায় যেভাবে ছিল, পত্রিকায় প্রকাশিত লেখায় রাসেলের মৃত্যুর দৃশ্য সেভাবে উঠে আসেনি। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে খন্দকার মোশতাক জড়িত ছিলেন বলে মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণে উঠে এসেছে। তাঁর ভূমিকা নিয়ে এই উপন্যাসে উল্লেখ করা তথ্য ভুল।’
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এই বই প্রকাশ করা একটি মহত্ উদ্যোগ। আমরা চাই তথ্যগত ভুল যাতে না থাকে। কারণ, তাঁর পাঠক লাখ লাখ, এর মধ্যে নবীন ও যুবকেরাই বেশি। প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরা না হলে তারা সঠিক ইতিহাস জানবে না। ভবিষ্যত্ প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস জানবে না, এটা হতে পারে না। তথ্যগতভাবে যাতে সঠিক হয়, এ জন্য আমরা বিষয়টি আদালতের নজরে দিয়েছি।’ আদালত মৌখিকভাবে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পেপারবুক হুমায়ূন আহমেদকে দিতে বলেছেন বলে তিনি জানান।
হুমায়ূন আহমেদের প্রকাশিতব্য রাজনৈতিক উপন্যাস দেয়ালের দুটি অধ্যায় ১১ মে দৈনিক প্রথম আলোর সাহিত্য সাময়িকীতে ছাপা হয়। এতে ১৯৭৫ সালে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের একটি বিবরণ রয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল গতকাল হাইকোর্টে বলেন, তিনি এক জায়গায় লিখেছেন ‘বঙ্গবন্ধুর দুই পুত্রবধূ তাদের মাঝখানে রাসেলকে নিয়ে বিছানায় জড়াজড়ি করে শুয়ে থরথর করে কাঁপছিল। ঘাতক বাহিনী দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকল। ছোট্ট রাসেল দৌড়ে আশ্রয় নিল আলনার পেছনে। সেখান থেকে শিশু করুণ গলায় বলল, তোমরা আমাকে গুলি করো না। শিশুটিকে তার লুকানো জায়গা থেকে ধরে এনে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হলো।’
অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্য, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ঘটনার একটি স্বীকৃত বিবরণ রয়েছে। তাতে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধুর বাড়ির কাজের ছেলে রমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়ে রাসেলকে হত্যা করা হয়।’