

ডেস্ক রিপোর্ট, ০৯মে: মুসলিম আইন অনুযায়ী বিয়ে একটি আইনগত বিধান এবং একটি দেওয়ানি চুক্তি। এটি একজন প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন নারী ও পুরুষের মধ্যে একত্রে বসবাস ও জীবন ধারণের চুক্তি।
মুসলিম আইন অনুযায়ী বিয়ের আচার বা অনুষ্ঠানের বিষয়টি মুখ্য নয়, আসল হলো এর আইনগত ভিত্তি। আইনানুযায়ী গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে মুসলিম বিবাহ সাধারণত তিন প্রকার।
- বৈধ বিয়ে
- অনিয়মিত বিয়ে
- অবৈধ বিয়ে
সম্মতি: মুসলিম বিবাহ আইনে বর ও কনে উভয়েরই পূর্ণ সম্মতি থাকতে হবে। সম্মতি বিবাহের একটি অপরিহার্য বিষয়।
বয়স: সাধারণ আইনে যে কোন চুক্তি করতেই পক্ষদ্বয়কে সাবালক ও সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন হতে হয়। বিবাহ যেহেতু একটি দেওয়ানি চুক্তি তাই এক্ষেত্রেও চুক্তি সম্পাদনকারী নারী ও পুরুষ উভয়কেই প্রাপ্ত বয়স্ক হতে হবে। বিয়ের জন্য ছেলের বয়স কমপক্ষে ২১ ও মেয়ের বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে।
দেনমোহর: মুসলিম বিবাহে দেনমোহর একটি অপরিহার্য শর্ত। বিবাহে অবশ্যই দেন মোহর থাকতে হবে । দেনমোহর স্ত্রীর অধিকার এবং তা অবশ্যই স্বামীকে পরিশোধ করতে হবে।
সাক্ষী: বিয়ের চুক্তি দুজন প্রাপ্ত বয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্ক মানুষের উপস্থিতিতে স্বাক্ষরিত হবে হবে। একটি সাধারণ লিখিত দেওয়ানি চুক্তি করতে হলে যেরকম সাক্ষীদের উপস্থিতি প্রয়োজন, বিবাহের ক্ষেত্রেও সাক্ষী প্রয়োজন।
রেজিস্ট্রেশন: বিয়ের চুক্তি অবশ্যই রেজিস্ট্রি করতে হবে।
প্রতিটি মুসলিম বিয়েতে উপরের শর্তগুলোকে অবশ্যই পালন করতে হবে। শর্তগুলো মেনে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে প্রস্তাব করলে ও অপর পক্ষ সে প্রস্তাব গ্রহণ করলেই বিবাহ সম্পন্ন হয়ে থাকে। এই প্রস্তাব প্রদান ও গ্রহণ একই বৈঠকে হতে হয় এবং সাক্ষীদের উপস্থিতিতে হতে হয়। রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।
একটি বৈধ বিয়ের ফলাফল:
একটি বিবাহ সম্পাদিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের মধ্যে সৃষ্টি হয় কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্যের। সেই সাথে সৃষ্টি হয় পারস্পরিক কিছু অধিকারের:
- স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে দেনমোহর ও ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী হয়
- সন্তান আইনগত বৈধতা পায় এবং সন্তান পিতামাতার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়।
- স্বামী- স্ত্রী পরস্পরের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়।
- স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীকে ইদ্দত পালন করতে হয়।